Home » আন্তর্জাতিক » তালেবানের হাতে আফগানিস্তান

তালেবানের হাতে আফগানিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ২০০১ সালে ক্ষমতা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া তালেবান রোববার বিনা রক্তপাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পুরো আফগানিস্তান এখন তাদের দখলে। কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর গত ১০০ দিনে একের পর এক শহর দখল করে সর্বশেষ কাবুল কবজায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের পর দ্বিতীয় পর্বের উত্থান ঘটাল তালেবান। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের আফগান যুদ্ধের লজ্জাজনক পরিণতিও হলো।

এদিকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোল্লা আব্দুল গনি বরাদরের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি মোল্লা ওমরের সহযোগী ছিলেন এবং মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট গনি গতকাল সন্ধ্যায় দেশ ছেড়ে পাশের তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আশরাফ গনির গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আশরাফ গনি এখন কোথায়, তাঁরা সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও কাবুল ত্যাগ করেছেন বলে অন্তত দুটি সূত্র তাঁদের নিশ্চিত করেছে।

এর আগে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মদি বলেছিলেন, এই সংকট মেটানোর দায়িত্ব দেশের রাজনীতিবিদদের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গনি।

গতকাল দুপুরে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার যেন শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে, সে জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের যোদ্ধারা কাবুলের প্রবেশপথে অবস্থান করবে।’

গতকাল সকাল থেকেই আফগানিস্তান ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। গতকাল সন্ধ্যার দিকে মার্কিন কূটনীতিকদের বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দূতাবাস ছাড়ার আগে মার্কিন কূটনীতিকরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে ফেলছেন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে কাবুল বিমানবন্দরের আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তবে আগ্রহীরা যাতে নির্বিঘ্নে আফগানিস্তান ছাড়তে পারে, সে জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটো সদস্যরা সহযোগিতা করছেন।

গত ২০ বছরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি, যথাক্রমে তিন হাজার ও এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার।